সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানি পিছিয়ে আগামী বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই তারিখ ধার্য করেন।
আজ সোমবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। খায়রুল হককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন জানান, মামলার নথি অন্য এক আসামির জামিন শুনানির জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে থাকায় খাইরুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি। এ কারণে শুনানি পিছিয়ে আগামী বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানী বনানী থানার একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে শাহবাগ যাওয়ার পথে তাদের ওপর হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।
বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে।
পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সাতটি মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার মধ্যে জালিয়াতি করে রায় প্রদান, হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগের মামলাও ছিল। সবগুলো মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তবে আপিল বিভাগ সাত মামলায় জামিন বহাল রাখার পর কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় থাকাকালে গত ২৩ মে নতুন করে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় খোবাইব নামে এক যুবককে হত্যা মামলায় তাঁকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় গত ৩০ জুন তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
এরপর গত ১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর জামিন বহাল রাখেন। এতে তাঁর মুক্তিতে কোনো বাধা ছিল না। তবে এরপর আবার ওই দিনই আরও একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। এই মামলাটিই তাঁর মুক্তির বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।