ডাক্তার না থাকা, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে রোগী দেখানো, টেস্ট, আলট্রাসনোগ্রাফির করানোর মতো নানা অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর অবশেষে সিলগালা করা হলো আশুলিয়ার সেই মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতাল। এ রকম নানা অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় আর্থিক জরিমানাসহ সিলগালা করা হয় হাসপাতালটিকে। এ সময় এমন অনিয়মের সংবাদ তুলে ধরায় আজকের পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
মঙ্গলবার দুপুরে ২টার দিকে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে আশুলিয়ার পল্লিবিদ্যুৎ এলাকার এ হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান চালান। বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হাসপাতালটিকে সিলগালা করা হয় ও ৫ হাজার টাকা নগদ আর্থিক জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা, আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহ-কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সায়েমুল হুদা বলেন, ‘বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। তিনি অভিযান পরিচালনা করেন। আমরা অভিযানে এসে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য বিধি মোতাবেক তারা কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাদের জরিমানাসহ হাসপাতালটি সিলগালা করেছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় তাদের পরবর্তীতে হাসপাতাল চালানোর কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে আবারও পরিদর্শনে আসব। সে অনুযায়ী নির্বাহী অফিসার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, ৮ নভেম্বর আজকের পত্রিকায় ‘আয় কম, তাই রাতে ডাক্তার থাকে না হাসপাতালে’ শিরোনামে আশুলিয়ার পল্লিবিদ্যুৎ এলাকার মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে নানা অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হয়। এতে ডাক্তার না থাকা, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে রোগী দেখানো, টেস্ট, আলট্রাসনোগ্রাফি করানোর মতো নানা অনিয়ম তুলে ধরা হয়। অনিয়মের বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন কামরুজ্জামান নামের এক ভুক্তভোগী। এরপর থেকেই নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্টরা।