নোয়াখালীর ডাবল মার্ডার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির ৮ জনকেই খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। অনতিবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিতে বলা হয়েছে। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত। সরাসরি যুক্ত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি বিবেচনায় নিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। এই তিনজনই পলাতক। তাই তাঁদের আত্মসমর্পণ অথবা গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। আর একজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আপিল নিষ্পত্তি করে আজ সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের বেঞ্চ এই রায় দেন।
যে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়েছে তাঁরা হলেন কামরুল হাসান ওরফে সোহাগ, রাশেদ ড্রাইভার ও কামাল হোসেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন মোফাজ্জেল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, সামছুদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, জাফর হোসেন, আলী আকবর, নাসির উদ্দিন ও আবু ইউছুফ। এ ছাড়া আসামি আবদুস সবুরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে আসামিদের আইনজীবী আজাহার উল্লাহ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আইন ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে খেয়ালিভাবে বিচারিক আদালত এই রায় দিয়েছেন, যেটা উচিত নয়। হাইকোর্ট উষ্মা প্রকাশ করেছেন এবং আরও সাবধানতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ ধরনের মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য তাগিদ দিয়েছেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
২০০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে নোয়াখালী শহরের জামে মসজিদ মোড় এলাকায় ডাকাতের হামলায় আহত হন ফিরোজ কবির, সামছুল কবির এবং সুমন পাল। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন, প্রি-পেইড কার্ডসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সুমন পালকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফিরোজ কবিরও।
ওই ঘটনায় ফিরোজ কবিরের বাবা আবু বকর ছিদ্দিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও ডাকাতির মামলা করেন। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন নোয়াখালীর দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয় ১০ আসামিকে।