মাদারীপুরের পাঁচটি উপজেলায় ৯১টি ইটভাটা রয়েছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই একটিরও। এদিকে নবায়নের জন্য হাতে গোনা কয়েকটি আবেদন করলেও দেওয়া হয়নি কোনোটির নবায়ন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার অধিকাংশই কৃষিজমি দখল করে গড়ে ওঠা এবং এতে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি দিন দিন কমছে ফসলি জমি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটার লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় নবায়নের জন্য হাতে গোনা কয়েকটি আবেদন করেছে, কিন্তু একটিও নবায়ন করা হয়নি।
বিভিন্ন ভাটা ঘুরে জানা গেছে, ইটভাটার ভেতরে করাতকল বসিয়ে কাঠ কেটে তা পোড়ানো হচ্ছে। এর ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বিলীন হচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ। তা ছাড়া কৃষিজমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবার অনেকে রাতের আঁধারে মাদারীপুরের নদ-নদীর পাড় থেকে কৃষিজমির মাটি কাটায় ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে এসব ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসায় ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয় লোকজন। তা ছাড়া এসব ইটভাটার বেশির ভাগ স্থাপন করা হচ্ছে ফসলি জমি কিংবা এর পাশ ঘেঁষে। বেশ কয়েকটি ইটভাটার পাশে জনবসতিও আছে। সদর উপজেলার পাচখোলা ইউনিয়নে রয়েছে ২০টির বেশি ইটভাটা। একটি ইউনিয়নে এত ইটভাটা থাকায় সচেতন মহলও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
পাচখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, ‘শুধু আমাদের এই পাচখোলা ইউনিয়নের রয়েছে ২৩-২৪টি ইটভাটা। আগে ৩০টি ছিল। কয়েকটি বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু একটি ইউনিয়নে এত ইটভাটা কীভাবে থাকে, তা সত্যিই বোধগম্য নয়। এতে করে এই এলাকার বাসিন্দারা স্বাস্থ্য ঝুঁকি, পরিবেশ ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। এগুলোর ব্যাপারে সঠিক আইন প্রয়োগ করা দরকার।’
মাদারীপুর শহরের সনমন্দি এলাকার এমআরবি ইটভাটা-সংলগ্ন বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘ইটভাটার পাশেই আমাদের বসতবাড়ি। এখানকার কালো ধোঁয়ায় আমরা স্বাস্থ্যগত হুমকির মধ্যে আছি। কোনো নিয়মনীতি না মেনেই ইটভাটাগুলো নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষ নানাভাবে হুমকির মধ্যে আছে। তাই এগুলোর ব্যাপারে জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।’
সদর উপজেলার সুপার ব্রিকসের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের ব্যাপারেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে মাদারীপুরের কোনো ইটভাটারই ছাড়পত্র নেই।’
ফোন দেওয়া হলে মাদারীপুর ইটভাটা শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন চৌধুরী ইটভাটা নিয়ে আগামী সপ্তাহে কথা বলবেন বলে জানান।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখানে নতুন এসেছি। জেলার সবকিছু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেওয়ার সুযোগ হয়নি। ইটভাটা নিয়ে কিছুটা আলোচনা করেছি, আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে বসেছি। সব সময় ইটভাটা আমাদের পরিবেশের সাংঘর্ষিক একটা ইস্যু আছে এবং ইটভাটার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ হয় বিধায় এটা নিয়ে আমরা সতর্ক। পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানিয়েছি এগুলোর ওপর তথ্য দেওয়ার জন্য। আইনকানুনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যারা ইটভাটা চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’