থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের তথ্য সংগ্রহের নামে পুলিশ কর্তৃক ভয় দেখানোর অভিযোগে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ২২ নাগরিক। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দীন খানের পাঠানো বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে সাক্ষর করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, আইন ও সালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নুর খান লিটন, মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াসহ বিশিষ্টজনেরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণাপত্রের অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে মানবিক মর্যাদা। বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সব সময় জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য’। সাংবাদিক জিল্লুর রহমানের মতো একজন প্রথিতযশা ব্যক্তিকে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উদ্বেগজনক। বিজয়ের মাসে স্বাধীন দেশের নাগরিকের এমন অভিযোগ জনমনে এই আশঙ্কার উদ্রেক করে যে, বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে কিনা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তও দাবি করেন বিশিষ্টজনেরা।
উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে ফেসবুক পোস্টে জিল্লুর রহমান জানান, পুলিশ তথ্য সংগ্রহের জন্য শরীয়তপুরে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে গেছে। তিনি মনে করছেন, তাঁকে, তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীদের ভয় দেখানোর জন্য এটা করা হয়েছে। যাতে উপস্থাপক হিসেবে তাঁর ভূমিকা এবং কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। তাঁর কণ্ঠরোধ করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।