দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রায় আড়াই মাস ধরে চেয়ারম্যান ও কমিশনারহীন। ফলে দুদকের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায়ও শিগগির নতুন কমিশন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না। দুদক আইনে সংশোধনী আনার পর নতুন কমিশন গঠন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র বলেছে, কমিশন নিয়োগের আগে দুদক আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনতে যাচ্ছে সরকার। কমিশনের মেয়াদ, প্রশাসনিক কাঠামো ও ক্ষমতা-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কমিশনের মেয়াদ বর্তমানের পাঁচ বছরের পরিবর্তে চার বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিশনশূন্য অবস্থায় প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে দুদকের সচিবকে কিছু ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। এসব পরিবর্তন কার্যকর করার পর কমিশন নিয়োগ করতে চায় সরকার।
বর্তমান দুদক আইনে কমিশন শূন্য হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের পদত্যাগের পর সেই সময়সীমা অনেক আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এখনো কমিশন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সার্চ কমিটিই গঠন করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে দুদক আইন সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হতে পারে। বিলটি সংসদে পাস হওয়ার পরই দুদকে কমিশন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে কমিশন গঠন আরও বিলম্বিত হতে পারে।
দুদক সংশ্লিষ্টদের মতে, কমিশন না থাকায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত অনুমোদন, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিএনপি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের ১৫ দিন পর ৩ মার্চ পদত্যাগ করেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ। তাঁরা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মইদুল ইসলাম বলেন, ‘দুদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন কমিশন ছাড়া থাকলে দুর্নীতিবাজেরা সুযোগ নেওয়ার পরিবেশ পায়। এতে তদন্ত, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই দ্রুত কমিশন গঠন করা জরুরি।’