রাজধানীর সূত্রাপুর ও ভাটারা থানা এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুজনই আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাজধানীর সূত্রাপুর অল্টার রোডের একটি বাসার সাততলায় ছাদে ঘুড়ি ধরতে গিয়ে সালভী আল জিজাদ (১০) নামের এক শিশু নিচে পড়ে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত জিহাদের খালু মো. মাসুম জানান, জিহাদ সূত্রাপুর অল্টার রোডে সাততলা বাসায় বাবা শাহ আলম ও মা জিয়ানমিন আক্তারের সঙ্গে থাকত। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে জিহাদ ছিল ছোট। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত জিহাদ। জিহাদের বাবা শাহ আলম স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানায় কাজ করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলায়। তিনি বলেন, ‘আজ বিকেলে জিহাদ তার সমবয়সী কয়েকজনের সাথে বাসার সাততলার ছাদে যায়। সেখানে একটি ঘুড়ি ছিঁড়ে এসে ছাদের কার্নিশে বেঁধে ছিল। এই ঘুড়ি আনতে গেলে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
এদিকে ভাটারা থানার নুরেরচালা এলাকায় একতলার ছাদ থেকে পড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মাহমুদ (২০)। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি একতলার ছাদ থেকে পড়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাহমুদকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ঠিকাদার মো. আলী হোসেন জানান, তাঁরা একতলা ভবনটির ছাদে কলম তৈরির জন্য কাঠ দিয়ে সেন্টারিং করছিলেন। তখন সেখানে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান মাহমুদ। পড়ার সময় বিদ্যুতের তারেও স্পৃষ্ট হন তিনি। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত পান। দেখতে পেয়ে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়। থাকতেন নুরেরচালা বোর্ডঘাট এলাকায়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।