ভর দুপুর। রাজধানীর শাহবাগ মোড়। শাহবাগ থেকে সায়েন্স ল্যাবের দিকে এগিয়ে আসছে লাল রঙের একটি প্রাইভেট কার। চেকপোস্ট থাকায় গাড়িটি দেখেই সিগন্যাল দেন র্যাবের এক সদস্য। হন্তদন্ত করে গাড়িটি থামায় কম বয়সী এক চালক। পাশে বসে আছেন তার বাবা।
এক পা দুই পা করে গাড়িটির দিকে এগিয়ে আসেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। জানতে পারেন, চালকের বয়স ১৩ বছর। পড়াশোনা করে ক্লাস সেভেনে। এই ছোট বাচ্চা কেন গাড়ি চালাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাবা আসিফুর রহমান বললেন, ‘আমি ভালো চালাতে পারি না। তাই ওকে দিয়ে চালাচ্ছি।’ কোথায় যাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে পরীবাগে আমাদের বাসা। লকডাউন; ফাঁকা রাস্তা, তাই বাবা-ছেলে মিলে একটু ঘুরতে বেরিয়েছি।’
পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটিকে পেছনের সিটে রেখে গাড়িটি বাসায় পৌঁছে দেন র্যাবের এক সদস্য। তবে মুখে মাস্ক না থাকায় জরিমানা গুণতে হয় বাবা-ছেলে দুজনকেই।
রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সকাল থেকে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। অভিযানে অকারণে ঘোরাঘুরি, মাস্ক না পরা, মোটরসাইকেলে যাত্রী বহনের অপরাধে ২৫ জনকে জরিমানা করেন র্যাবের এই ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের মধ্যে অধিকাংশই মোটরসাইকেল চালক। জরিমানার কবলে পড়াদের তালিকায় আছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরাও। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।
অভিযানের বিষয়ে পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘লকডাউনে যারা বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন, তাঁদের সচেতন করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা বাইরে না আসেন। মূলত জরিমানা করাই র্যাবের উদ্দেশ্য নয়। র্যাবের উদ্দেশ্য, করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।’