ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষেরা। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসেও রাজধানীতে জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছেছে। অধিকাংশ পাম্পে পেট্রল-অকটেন নেই, কিছু পাম্প নিজেদের সিদ্ধান্তে রেশনিং করছে, সন্ধ্যা নাগাদ তেল আসার সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন কেউ কেউ।
আজ দুপুরে ঢাকার বেশ কয়েকটি পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্য জানা যায়।
ঈদের ছুটিতে ব্যাংক ও ডিপোগুলো বন্ধ থাকায় গত শনি ও রোববার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাম্পগুলোতে তেল ছিল না। গতকাল সোমবার কিছু কিছু পাম্পে তেলের স্বল্প বরাদ্দ এসেছিল।
গতকাল বিকেল ও সন্ধ্যা থেকে ঢাকার অধিকাংশ পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। সহসা তেল আসার সম্ভাবনা না থাকায় পাম্পগুলোর সামনে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ গাড়ির ভিড়ও নেই।
তেজগাঁওয়ের সততা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক বাবুল মিয়া জানান, গতকাল যে পরিমাণ অকটেন এসেছিল, তা রাত আড়াইটায় শেষ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে ডিজেলের সরবরাহ চালু আছে। রাতের মধ্যে সাড়ে ৯ হাজার লিটার ডিজেল ও সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন আসবে।
সাউদার্ন ফিলিং স্টেশনের আরিফ হোসেন বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যার দিকে অকটেনের সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে। তবে ডিজেলের সরবরাহ চালু রয়েছে। ভোর ৪টার দিকে তেলের লরি ডিপোতে গেছে। দুপুরের মধ্যে চলে আসবে বলে আশা করছি।’
তবে তেল থাকলেও পরিস্থিতির কারণে ফের রেশনিং শুরু করেছে ক্লিন ফুয়েল নামের একটি পেট্রলপাম্প।
এই পাম্পের ব্যবস্থাপক সরওয়ার আলম বলেন, ‘এখানে মাত্র ১৩ হাজার লিটার দৈনিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। বাধ্য হয়ে আমরা মোটরসাইকেলের জন্য ৩০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারের জন্য ২ হাজার টাকার তেল দিচ্ছি। উদ্দেশ্য হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা পাম্প সচল রাখা।’
দুপুরেও এই পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘তেলের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ ছিল এবং আছে। কিন্তু তেল কেনার পরিমাণ ও প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে সময়ের আগেই তেল শেষ হয়ে গেছে। আমরা বারবার বলছি তেল আছে, সবাই তেল পাবেন। তেলের অভাবে কারও গাড়ি কি বন্ধ হয়ে গেছে?’