গরুর হাটের জন্য বরাদ্দ নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে রাস্তার ওপরে চলে এলে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গরুর হাটগুলো যদি কোনো কারণে যানজটের সৃষ্টি হয় জনদুর্ভোগ বা ভোগান্তির সৃষ্টি হয়, সে ব্যাপারে সিটি করপোরেশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি কোরবানি হাট পরিচালনায় এমন ৩৯টি শর্ত দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার গুলশান-২ ডিএনসিসির নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে কোরবানির হাট ব্যবস্থাপনায় ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভায় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
ডিএনসিসির আয়তনের মধ্যে গাবতলীসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী ১১টি কোরবানির হাট পরিচালনায় ৩৯ শর্ত দিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এসব শর্ত মেনে হাট পরিচালনা করতে ইজারাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (উপসচিব) মোহাম্মদ শওকত ওসমান সভায় শর্তগুলো তুলে ধরেন।
হাটের বর্জ্য পাঁচ দিন জমিয়ে না রেখে প্রতিদিন পরিষ্কার করার পরিকল্পনা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে শফিকুর ইসলাম বলেন, প্রতিদিনের বর্জ্য পরিষ্কার করার পরিকল্পনা আমাদের আছে যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়। এ ছাড়া হাটে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যাতে পানি জমে না থাকে এবং প্রয়োজনে মশা নিধনের জন্য ফগিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
ডিএনসিসির শর্ত অনুযায়ী, গবাদিপশুর বিক্রয়মূল্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হারে হাসিল (ফিস) আদায় করা যাবে। অতিরিক্ত ফিস আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জামানত বাজেয়াপ্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন হাট চালু রাখা যাবে এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি কোনোভাবেই হাট বসানো যাবে না।
প্রত্যেক হাটে হাসিলের হার স্পষ্টভাবে সাইনবোর্ডে প্রদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে রাস্তা, ফুটপাত কিংবা জনচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এমনভাবে হাট পরিচালনা করা যাবে না। সড়কে পশু লোড-আনলোড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাটের ভেতরে পৃথক পার্কিং ও পশু ওঠানামার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজারাদারকে নিজ খরচে পুলিশ, আনসার ও প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, আলোর ব্যবস্থা, পৃথক প্রবেশ ও বাহির গেইট এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে।
শর্তে আরও বলা হয়েছে, পশুর হাটে ডিজিটাল লেনদেন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক বুথ স্থাপনে সহযোগিতা করতে হবে। জাল নোট শনাক্তকারী মেশিনও স্থাপন করতে হবে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করোনা ও অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি হাটে হাত ধোয়ার বেসিন, বিশুদ্ধ পানি ও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসির শর্ত অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই মহাসড়কের পাশে হাট বসানো যাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে সড়ক থেকে অন্তত ৫০ গজ দূরে হাট স্থাপন এবং ৭ ফুট উচ্চতার বেড়া দিতে হবে। এ ছাড়া শুধু রাতের বেলায় পশুবাহী ট্রাক হাটে প্রবেশ করতে পারবে।
হাটের মেয়াদ শেষে বাঁশ, খুঁটি ও অন্যান্য অস্থায়ী স্থাপনা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরও অবকাঠামো অপসারণ না করলে ডিএনসিসি নিজ উদ্যোগে তা সরিয়ে খরচ জামানত থেকে সমন্বয় করবে।
ডিএনসিসি আরও জানিয়েছে, চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘন করা হলে ইজারা বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে কারণ দর্শানো ছাড়াই হাটের ইজারা বাতিলের ক্ষমতাও করপোরেশন সংরক্ষণ করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান সহ অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রশাসন, ব্যাংক কর্মকর্তা ও ইজারাদারেরা।