হোম > সারা দেশ > ঢাকা

বছরে বরাদ্দ ৯-১০ কোটি, তবু সচিবালয়ের ১০ মন্ত্রণালয়ে কোনো গাছ নেই 

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল, ঢাকা

সরকারি স্থাপনায় বৃক্ষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দায়িত্ব দেওয়া আছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আরবরিকালচার নামে একটি দপ্তরকে। সেই দপ্তরের নামে প্রতি বছর কমপক্ষে ৯ থেকে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দও থাকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের ১০টি মন্ত্রণালয়ে সেখান থেকে কোনো গাছ বা টব সরবরাহ করা হয়নি। 

সম্প্রতি এসব মন্ত্রণালয় চিহ্নিত করে সেখানে গাছ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে ১৭ একর আয়তনের পুরো সচিবালয় এলাকাকে বৃক্ষবেষ্টিত করে সেখানকার বাতাস ও পানি পরীক্ষাসহ আরও বেশ কিছু কাজে হাত দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি গণপূর্ত সচিব মো. নবীরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ বিষয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এসব সিদ্ধান্ত হয়। 

জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. নবীরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা করেছি। পুরো সচিবালয় নিয়েই আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে। আমার দেখেছি কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে একবারেই বৃক্ষ নেই। এমন ১০টি মন্ত্রণালয় চিহ্নিত করা হয়েছে। আবার সচিবালয়ের দেয়াল ও ভবন ইউনিক করার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া একজন দর্শনার্থী খুব সহজে যেন সব মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের তথ্য পান, সে বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে কাজগুলো শেষ হলে সচিবালয়ে এলাকায় খুব ভালো পরিবেশ হবে।’ 

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পূর্তসচিব নবীরুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ের সার্বিক পরিবেশ আরও ভালো করার জন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করেন। সেখানে সচিবালয়ের প্রায় ১৭ একর জায়গায় গাছপালার উপস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরবরিকালচার বিভাগকে কিছু দিকনির্দেশনা দেন। 

নির্দেশনার পর আরবরিকালচার বিভাগ মন্ত্রণালয় ধরে ধরে কোথায় গাছ নেই সেটির তালিকা করেন। তালিকায় দেখা যায়—শিক্ষা, ধর্ম, নৌপরিবহন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, বস্ত্র ও পাট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজকল্যাণ, আইন বিচার ও সংসদ, ভূমি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের গাছ নেই। 

এসব মন্ত্রণালয়ের জন্য এরিকাপাম, ডায়মন্ডবেচিয়া, তালপাম, ড্রেসিনা, মানি প্ল্যান্ট, ফনিক্সপাম, ভুট্টাপাতা ড্রেসিনা, আড়ালিয়া, পাতাবাহার, বকুল, ড্রেসিনা বাঁশপাতা, মানি প্ল্যান্ট কচু কেনটিয়া পাম, রাফিস পাম এবং অগ্নিসর গাছ সরবরাহ করার কাজ শুরু হয়েছে। এসব গাছ মন্ত্রণালয়গুলোর বারান্দা বা ছায়াযুক্ত স্থানে টবে জন্মাবে বলেও জানা যায়। 

সভায় উপস্থিত দুজন কর্মকর্তা বলেন, পুরো মন্ত্রণালয় ঘিরে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল শেড, উন্মুক্ত স্থান গাছপালা দিয়ে সজ্জিত করা, বাউন্ডারি ওয়ালে খচিত করে নানা তথ্য উপস্থাপন, প্রতিটি ভবন রং দিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী করা, অভ্যন্তরীণ হাঁটার পথ তৈরি করা, দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা অকেজো যানবাহনগুলো দ্রুত অপসারণ করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বেশির ভাগ সময় গণপূর্তের আরবরিকালচার বিভাগের অধীনে মন্ত্রণালয়গুলোতে গাছ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি। 

এসব বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান বৃক্ষপালনবিদ শেখ মো. কুদরত-ই খুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ে একটি সার্ভে করেছি। কিছু জায়গায় গাছ নেই। সেখানে গাছ দেওয়া হবে। আর অন্য সব ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগানো হবে। আমরা যে অর্থ বরাদ্দ পাই, তা দিয়ে শুধু গাছ রোপণ নয়; গাছের পরিচর্চায় বড় একটা অর্থ খরচ হয়। এখানে কোনো অনিয়ম হয় না।’

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৯

৯ ঘণ্টা পর প্রক্টর অফিস থেকে ছাড়া পেলেন চবির সেই শিক্ষক

এলপিজির সংকট কাটছে না শিগগির

নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট কারখানায় বিস্ফোরণে ৭ জন দগ্ধ

দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

নিকুঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র

হাদি হত্যা: চার্জশিটে আপত্তি থাকলে বাদীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

গুলিস্তানে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২: গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোসাব্বির হত্যায় শুটার জিনাতসহ গ্রেপ্তার ৩