ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ৯টি পশুর হাট রয়েছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য এসব হাটের ইজারা দিতে দরপত্র আহ্বান করেছিল উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দরপত্র না পাওয়ায় চারটি হাটের ইজারা হয়নি। যে পাঁচটি ইজারা দেওয়া হয়েছে, তা-ও আবার গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের কম দরে। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
যদিও সরকারনির্ধারিত সর্বনিম্ন দরের বেশি টাকায় হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপজেলা প্রশাসন বলছে, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই পাঁচটি হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যেসব হাটের কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি, সেগুলোর পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।
হাটের ইজারামূল্য না বেড়ে উল্টো কমে অর্ধেকে নামার কারণ জানতে দরপ্রস্তাবকারী ও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা অভিযোগ তোলেন, আগ্রহীদের দরপ্রস্তাব জমাদানে বাধা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। কয়েক দরদাতার মধ্যে সমঝোতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ইজারামূল্য কমিয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে সেই কমের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ দরদাতাকে হাট ইজারা দেওয়া হয়। এমন ইজারা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১২ মে থেকে উপজেলার ৯টি পশুর হাটের ইজারার দরপত্র বিক্রি শুরু হয়। গত সোমবার বেলা ৩টায় দরপত্র জমা নেওয়া শেষ হয়। এরপর সরকারনির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দরপ্রস্তাবকারী পাওয়ায় পাঁচটি হাটের ইজারা দেয় প্রশাসন। তবে বাকি চারটির কাঙ্ক্ষিত দরপ্রস্তাব না পাওয়ায় সেগুলোর ইজারা কার্যক্রম শেষ হয়নি। এসব হাটের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। যদিও পশুর হাটে বছরে সবচেয়ে জমজমাট বেচাকেনার মৌসুম কোরবানি ঈদ আসতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি আছে।
ইজারা না হওয়া হাটগুলো হলো রাজাবাড়ী বালুর মাঠ, রসুলপুর মাদ্রাসাসংলগ্ন বালুর মাঠ, খাড়াকান্দী মাদ্রাসা হাট ও বাঘাশুর পশুর হাট। ইজারা দেওয়া হয়েছে হাসনাবাদ পশুর হাট, আগানগর আমবাগিচা বালুর মাঠ হাট, ঐতিহ্যবাহী জিনজিরা পশুর হাট, মডেল থানার নতুন সোনাকান্দা গবাদিপশুর হাট ও মিলিনিয়াম সিটি পশুর হাট।
এর মধ্যে হাসনাবাদ হাটের সরকারি সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হয় ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। হাটটির ইজারা পেতে তিনজনের দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন মো. সেলিম। যদিও গত বছর একই হাটের ইজারা হয়েছিল ৬১ লাখ টাকায়।
আগানগর আমবাগিচা বালুর মাঠ পশুর হাটের সরকারি সর্বনিম্ন দর ছিল ৫৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা দরপ্রস্তাবকারী আনোয়ার হোসেনকে এই হাট ইজারা দেওয়া হয়; যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা কম।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ঐতিহ্যবাহী জিনজিরা পশুর হাট। হাটটির সরকারি সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা দরদাতা মো. মোজাদ্দেদ আলী বাবু হাটটির ইজারা পেয়েছেন। গত বছর একই হাটের ইজারা হয়েছিল ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার নতুন সোনাকান্দা গবাদিপশুর হাটের সর্বনিম্ন দর ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। হাটটি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন শাহাবুদ্দিন। মিলিনিয়াম সিটি পশুর হাটের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। হাটটি সর্বোচ্চ দরদাতা সাইফুল ইসলামকে ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। যদিও গত বছর একই হাটের ইজারা হয়েছিল প্রায় ৭২ লাখ টাকায়।
এদিকে রাজাবাড়ী মাদ্রাসা হাটের সরকারি মূল্য ছিল ১ লাখ টাকা। তবে সর্বোচ্চ দর ওঠে মাত্র ৩০ হাজার টাকা। রসুলপুর মাদ্রাসাসংলগ্ন হাটের সরকারি মূল্য ছিল ৪ লাখ টাকা। সেখানে সর্বোচ্চ দরপ্রস্তাব জমা পড়ে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার। ফলে এই দুই হাটসহ মোট চারটি হাটের ইজারা হয়নি।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওমর ফারুক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পশুর হাটগুলোর ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
যেসব হাটের কাঙ্ক্ষিত দরপত্র পাওয়া যায়নি, সেগুলোর দরপত্র পুনরায় আহ্বান করা হবে।’