নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ধর্ষণচেষ্টা ও ভিডিও ধারন করে ছড়ানোর ঘটনায় থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুলে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার বেঞ্চ এ রায় দেন।
তৎকালীন ওসি কামরুজ্জামান, এসআই হাবীবুর রহমান, এএসআই মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ এবং আলী আজগরসহ দুই গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে এলজিআরডি সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর ঘরে ঢুকে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর এলাকার দেলোয়ার বাহিনীর সদস্যরা। তারা ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও চিত্রও ধারণ করেন। পরে ওই নারীকে হামলাকারীরা কুপ্রস্তাব দেন। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে।
গত বছরের ৫ অক্টোবর ঘটনাটি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অনীক আর হক ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। নজরে আনার পর ফুটেজ সরাতে এবং ওই নারীর পরিবারকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এ ছাড়া বিষয়টি অনুসন্ধান করতে কমিটিও করে দেওয়া হয়। ওই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় চৌকিদারের অবহেলা পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে আদালত যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিতে পারেন বলে মত দেওয়া হয় প্রতিবেদনে।