রাজধানীর বঙ্গবাজার এলাকার পানির ব্যবসা দখলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গতকাল শনিবার শাখা ছাত্রলীগের ৭০-৮০ জন নেতা-কর্মী বঙ্গ ইসলামিয়া মার্কেটের সামনে শতাধিক পানির জার ফেলে রেখে সারা দিন অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় কাউন্সিলর (১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ) সৈয়দা রোকসানা চামেলী ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পানিবাহী একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় আজকের পত্রিকার এই প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই পানি ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা টাকা দাবি করে আসছেন অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসফাক সরকার আবির। ব্যবসায়ীরা টাকা দিতে অস্বীকার করলে আবির বলেন, ‘আমার পরিচিত লোক ব্যবসা করবে, দেখি তোরা কেমনে ব্যবসা করিস।’
পল্লব আহমেদ নামের এক পানি ব্যবসায়ী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শনিবার হঠাৎ করে হলের বিপুলসংখ্যক পোলাপান লইয়া আসে আবির। আমাদের যারা পানি দেয়, লেবারের কাজ করে, তাদের মারধর করে, তারা (ছাত্রলীগ) পানি দিতে থাকে। তার আগে বিভিন্নজনকে মারধরসহ টাকা নেয় আবির ও তার সঙ্গে থাকা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।’
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবিরের নেতৃত্বে ছিলেন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহনাফ ইসরাক নাফি, আসাফউদ্দৌলা কাকন, মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, রেদোয়ানুল হক রাকিব, জায়েদ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ, প্রচার সম্পাদক আবদুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা সামিউল হক রাফি, সাজ্জাদ হোসেন দিপুসহ (বহিরাগত তবে হলে অবস্থান করেন) আরও অনেকে।
এদিকে অভিযুক্তদের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নামধারী ‘চাঁদাবাজ’ উল্লেখ করে পদক্ষেপ গ্রহণ দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলী। উপাচার্য বিষয়টি দেখভালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন।
চামেলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসতেছি, অমর একুশে হলের ছাত্ররা ব্যবসায়ীদের ডিস্টার্ব করে, চাঁদা দাবি করে, মারধর করে। শনিবার ঘটনাস্থলে আমি গেলে তারা (ছাত্রলীগ) আমার সঙ্গে খুবই বাজে আচরণ করে, জোর করে ব্যবসা করবে বলে জানায়। তখন আমি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসতিয়াক এম সৈয়দ স্যারকে ফোন দিলে স্যার তাদের পুলিশে ধরিয়ে দিতে বলে। পরে প্রক্টর স্যারের নম্বর দেয়, পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে তবে পুলিশকে তারা (ছাত্রলীগ) পাত্তা দেয়নি। পরে আমাদের স্থানীয় লোকজন বিশেষ করে নারীরা উপস্থিত হলে তারা পিছু হটে এবং সমঝোতার কথা বলে আবির। আমি তখন বলি, কিসের সমঝোতা! তোমরা তো আমাদের অনেক দোকানদারকে মেরেছ, টাকা নিয়েছ। আর কী চাও?’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অভিযুক্তদের যথাযথ শাস্তির আওতায় আনবেন বলে আশা প্রকাশ করেন চামেলী।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বাগ্বিতণ্ডা ও চাঁদা দাবি করার বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক নারী কাউন্সিলর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। তখন আমি তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টর সাহেবকে দেখতে বলেছি। এ রকম ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে শুনিনি, একসময় শুনতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক কাজ করছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে প্রক্টরকে বলেছি। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’