দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রশীদের পদোন্নতি স্থগিত করে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পদোন্নতির খবর প্রকাশের পর বিমানের অভ্যন্তরে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিজানুর রশীদকে সম্প্রতি পরিচালক (মানবসম্পদ উন্নয়ন) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা নানা দুর্নীতির অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পদোন্নতি কার্যকর করা হয়নি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন সার্ভিস আইন, ১৯৭৯-এর ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগামী ২০ মে থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমানের একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার পরিচালক পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত অনুমোদনের পর বিষয়টি অনুষ্ঠানজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে অভিযোগের বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ পদোন্নতি স্থগিতের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা গেছে, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনাকাটায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এর আগে বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হন মিজানুর রশীদ। যদিও বিভাগীয় তদন্তে তিনি অব্যাহতি পান, তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো বিষয়টি অনুসন্ধান করছে।
এদিকে অভিযোগের মধ্যেই গত ৪ মার্চ তাকে মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদ থেকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিনই আবার তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়। পরে অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়েও উচ্চপদ হিসেবে বিবেচিত।
বিমানের অভ্যন্তরে অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার তদবিরে মিজানুর রশীদ ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও পদোন্নতি পেয়ে আসছিলেন।
সূত্র জানায়, মিজানুর রশীদের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বিমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা ও এক ভাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চাকরি করতেন। বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার (টিএ-ডিএ) ভুয়া ভাউচার তৈরি করে প্রায় ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৮ সালে ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের পক্ষ থেকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে সফটওয়্যার কেনাকাটা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।