সাভারের হেমায়েতপুরে দুই ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের পর এবার আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বেরিয়ে এসে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয় পুলিশ।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৭৩টি কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
শ্রমিক, পুলিশ ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে নিউ এজ গ্রুপের দুটি এবং নরসিংহপুরে হা-মীম গ্রুপের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে আসেন। তবে তাঁরা কাজ না করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। পরে বেলা ১১টার দিকে এসব কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকেরাও বেরিয়ে এসে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন।
এ সময় পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে শ্রমিকেরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মিছিল করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
আন্দোলনরত কয়েকজন শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার শুধু আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে বেতন বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
এক শ্রমিক বলেন, ‘আন্দোলন করলে আমাদেরও ক্ষতি, মালিকপক্ষেরও ক্ষতি। কিন্তু আমরা যদি ঠিকমতো খেয়ে-পরে বাঁচতে না পারি, তাহলে কী করব? এ জন্যই আন্দোলন করে দাবি আদায়ের চেষ্টা করি। অতীতে শ্রমিকদের অধিকাংশ দাবি আন্দোলনের মাধ্যমেই আদায় হয়েছে।’
শ্রমিকদের বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘আমরা চাই না আন্দোলনের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হোক। আমার মনে হয়, মালিকপক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে আন্দোলন থেমে যাবে।’
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম দুপুর ১২টার দিকে আজকের পত্রিকাকে বলেন, শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল করছেন। তবে কোথাও কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি।
সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ১৭৩টি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।