গাজীপুরের শ্রীপুরে যৌন হয়রানির অভিযোগে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে অবরুদ্ধ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, জোরপূর্বক স্থানীয় এক বিধবা নারীর (৩২) সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপের সময় তাঁকে তালাবদ্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নেতার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার একটি গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।
অবরুদ্ধ ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল জলিল মৃধা (৪২)। তিনি উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা গ্রামের মৃত শাহীদ মৃধার ছেলে এবং কাওরাইদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাপ্তা গ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি।
মো. জুয়েল মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, অভিযুক্ত আ. লীগ সভাপতি নিজের দাপট দেখিয়ে এ রকম আরও বাড়ির অসহায় পরিবারের নারীদের সঙ্গে ভয়ভীতি দেখি অনৈতিক কার্যকলাপ করে থাকেন। আজ সকালে এই বাড়ির লোকজন চলে গেলে ওই বিধবার বাড়িতে অবস্থান নেন। পরে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপের চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী জানতে পেরে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন।
ভুক্তভোগী বিধবা নারী বলেন, ‘আমাকে প্রায় সময় বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করে। এতে মুখ খুললে আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপ কথা রটিয়ে দিবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। আজ সকালে আমার সঙ্গে জোর করে অনৈতিক কার্যকলাপ করতে আসলে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। সে অবরুদ্ধ হওয়ার পর আমাকে বলে তাঁর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে এটা যেন সবাইকে বলি, তা না হলে সে আমার বড় ক্ষতি করবে।’
বিয়ে করলে ওই নারী কেন ‘না’ বলছেন? আর আপনি বিয়ে করলে ওই নারীকে আপনার বাড়িতে নেননি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি ওই নেতা।
এদিকে কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. সাইদুল হক খোকন বলেন, ওই নেতাকে একটি বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের নির্দেশে ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ বলেন, ঘটনা জানার পরপরই ঘটনাস্থলে ইউনিয়ন পরিষদের দুজন মেম্বারকে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ আমাকে অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’