রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠ (সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ফের চীন-মৈত্রী সিগন্যাল অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়ে চীন-মৈত্রী সিগন্যাল এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সিগন্যাল অবরোধ করেন তাঁরা। প্রতিবেদন লেখা আগ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলমান রয়েছে।
আজকের অবরোধে অংশ নেন বিভিন্ন অনুষদের হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। অবরোধ কর্মসূচি থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘোষণাও দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
‘এক দফা এক দাবি, আমার মাঠ ফিরিয়ে দিবি!’ , ‘ধবল বকের ঠিকানা, আগারগাঁও আগারগাঁও, হলুদ বকের ঠিকানা, আগারগাঁও আগারগাঁও’, ‘তোমার আমার ঠিকানায় সচিবালয় হবে না’—এ ধরনের স্লোগান দিতে দিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে আগারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
পুরোনো গবেষণা মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে এর আগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) একই সিগন্যাল অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন প্রায় ২০ মিনিটের অবরোধে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পুরোনো গবেষণা মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার স্বার্থে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর সব ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর থেকে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে তা হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তাঁরা। পরদিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ওই দিনই জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মাঠটি চাষ করে নিজেদের দখলে নেন আন্দোলনকারীরা।