সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের গাড়িচালক মো. চান মিয়া ও কেয়ারটেকার মো. মহিদুল ইসলামকে আবার ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার শুনানি শেষে প্রত্যেকের ৩ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে দুজনকেই পৃথক মামলায় পাঁচ দফা রিমান্ডে নেওয়া হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এই মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড শেষে দুজনকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত কর্মকর্তা রমনা গোয়েন্দা বিভাগের এসআই মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার দুজনকে আবারও ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে আবার ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল করার অভিযোগে রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। পুলিশের এসআই আওলাদ হোসেন বাদী হয়ে ওই দিন মামলাটি দায়ের করেন। গত ২ মে দুজনকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
ফের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে বলা হয়েছে, এ মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আংশিক ও অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। প্রদত্ত আংশিক ও অসম্পূর্ণ তথ্য যাচাই–বাছাই করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকির বিষয়ে দেওয়া তথ্যসমূহের সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে ও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার জন্য আসামিদ্বয়কে পুনরায় নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল মহিদুল ইসলামকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইসলামবাগ এলাকা থেকে এবং চান মিয়াকে রাজধানীর ভাষানটেক এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে হাজির করে ডিবি। এরপর ওই মামলায় দুজনকেই ২০ এপ্রিল ৪ দিন, ২৪ এপ্রিল ৪ দিন ও ২৮ এপ্রিল ৩ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৪ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়।