কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয় চারজনকে। আটক হয়ে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় দুই যুবককে পিটিয়ে আহত করে এর শোধ তুললেন তাঁরা। গতকাল সোমবার উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে মাদক সেবনের সময় দুই যুবকের সহযোগিতায় স্থানীয় গ্রামবাসী চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন পৌর এলাকার শ্রীপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে মো. বাবু (২৪), বাবুল মিয়ার ছেলে ইমাম হোসেন (৩২), হারুনুর রশিদের ছেলে মো. ওয়াসিম (৩০) এবং পার্শ্ববর্তী ফেলনা গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে মো. মুসা (২৬)। পরে থানা-পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত থেকে একই দিন তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগ রয়েছে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় যাত্রাপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে জুনায়েদ হোসেন (২৩) ও মৃত আবুল হাসেমের ছেলে শাখাওয়াত হোসেন শামীমকে (৩৪) পেয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
এতে দুজনই আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জুনায়েদ হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় জুনায়েদের বাবা আবুল বাশার বাদী হয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়া চারজনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মো. আরিফ হোছাইন বলেন, মাদক সেবনকারীদের হাতেনাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচার করা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। তবে যাত্রাপুরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে কেউ রাজি না হওয়ায় তাঁদের দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল।
ওসি আরও বলেন, ‘তারা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দুই যুবককে মারধর করেছে বলে আমরা জেনেছি। এ ঘটনায় আহত জুনায়েদের বাবা পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’