কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি মন্ত্রী হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা নেবেন না এবং সরকারি গাড়িও ব্যবহার করবেন না। এমনকি গাড়ির জ্বালানি খরচও সরকারি তহবিল থেকে নেবেন না।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি সরকারি বেতন-ভাতা নেব না। সরকারি গাড়িও ব্যবহার করি না। তেলের খরচও নেই না। ভবিষ্যতেও এ অবস্থান বজায় রাখব।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের অনেক প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এই সরকারের কাছে। আগামীর বাংলাদেশ হবে বাকস্বাধীনতার বাংলাদেশ, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ—এ লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।
কুমিল্লার কৃষি উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, আখতার হামিদ খান সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে কুমিল্লা অঞ্চলে আধুনিক কৃষির সূচনা করেছিলেন। তার উদ্ভাবিত ‘কুমিল্লা মডেল’ দেশ-বিদেশে এখনো সমাদৃত।
তিনি বলেন, আমি নিজেও একজন কৃষক। মাঠের বাস্তবতা জানি। কুমিল্লাসহ সারা দেশের কৃষি উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব।
শিল্পায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, কুমিল্লায় প্রথম রপ্তানিমুখী কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ তিনিই নিয়েছিলেন। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও উৎসাহে বর্তমানে জেলায় এক ধরনের শিল্প বিপ্লব ঘটেছে। বহু নতুন কারখানা গড়ে উঠেছে এবং এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, কুমিল্লার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে তিনি সবার সহযোগিতা চান। কুমিল্লাকে শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান থেকে জেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে বাস্তবায়নের দাবিকে তিনি সমর্থন জানিয়ে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে আমিন উর রশীদ বলেন, আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনায় আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা পাশে থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইউমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।