কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাগমারা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২১ শিক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হতে পারেননি কেউই। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কলেজটিতে এত দিন যারা পাঠদান করিয়েছেন তারা সকলে দাখিল পর্যায়ের শিক্ষক। তারাই পড়াচ্ছিলেন ওই শিক্ষার্থীদের।
২০২৬ সালের এইচএসসি সমমান আলিম পরীক্ষায় উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নে অবস্থিত বাগমারা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, শনিবার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় সেখানে পাস করেনি মাদ্রাসার একজনও শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের দাখিল বিভাগটি এমপিওভুক্ত। কিন্তু আলিম বিভাগ নন এমপিও হওয়ায় আলিম বিভাগের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষক নেই। দাখিল বিভাগের শিক্ষকদের দিয়েই আলিম বিভাগ পরিচালনা করে আসছি। আমরা আশা করেছিলাম অন্তত ৮ / ১০ জন পরীক্ষায় পাস করবে, তবে এমন ফলাফল হবে তা ভাবিনি।’
আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘দাখিল বিভাগে ১৪ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী দিয়ে আমরা মাদ্রাসা পরিচালনা করছি। এখানেও ১০ জন শিক্ষক কম রয়েছে। এমপিওভুক্তির জন্য কোনোরকমে আলিম বিভাগটি চালু রেখেছি। তা ছাড়া ২১ জন শিক্ষার্থী ফরম ফিলআপ করলেও ১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে তিনজন পুরুষ ও তেরো জন নারী শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের বিবাহ হয়ে গেছে, তাদের বারবার ডেকে এনে কোচিং করিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাতে হয়েছে। আমরা রেজাল্ট নিয়ে চ্যালেঞ্জ করব।’
মাদ্রাসার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মুসা ভূঁইয়ার সঙ্গে কথা যোগাযোগ করা হলে তিনি মাদ্রাসার ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, মাদ্রাসার অনেক ভালো শিক্ষার্থী দাখিল পাস করার পর বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষায় মেধাবীরা সেখানে থাকে না। তবে বাগমারা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি নিয়ে আমরা বসব। ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো ফলাফল করা যায়। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করব।