কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে, পিটিয়ে দুই পা থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও স্বজনদের।
বাদশার পরিবারের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর ওপর এই হামলা হয়েছে। তবে জামায়াত একে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে গাড়ির চালককে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর অস্ত্র বের করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ফেসবুক লাইভে এসে আবুল বাশার বাদশাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাঁর দুটি পা থেঁতলে দেয়। পরে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহত আবুল বাশার বাদশাকে উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, আবুল বাশার বাদশা দীর্ঘদিন ধরে বারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁকে একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ফোনে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। এতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দাউদকান্দি উপজেলা জামায়াতের আমির ও কুমিল্লা-১ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুল মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমার বাসার সামনে ঘটে যাওয়া মারামারির ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটি একটি ভিত্তিহীন মিথ্যাচার।’
এ ব্যাপারে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল হালিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’