জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের স্বাক্ষরে পৃথক চিঠিতে একই দিনে দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দুই কর্মসূচির অতিথি তালিকাতেও রয়েছে ভিন্নতা। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এরই মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।
অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকায় আবুল কালাম আজাদকে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য পদে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সরকারকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতির বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি দলের নীতি ও আদর্শ ধারণ করে ১৯৮৬ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। কমিটিতে আসার পর থেকেই হাইব্রিড নেতাদের দিয়ে দল গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন। দুর্দিনে যারা রাজনীতির মাঠে ছিলেন, তাঁদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
আবুল কালাম আজাদ আরও অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ অর্থের বিনিময়ে দলীয় পদ-পদবি ও কমিটি বাণিজ্যের চেষ্টা করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে দেবিদ্বার ছেড়ে দাউদকান্দিতে রাজনৈতিক কার্যালয় বা অবস্থানকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করায় তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।
সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির রাজনীতিতে দেবিদ্বারের অভিভাবক উল্লেখ করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাঁকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। তাঁর দল থেকে বহিষ্কারের একটি চিঠি প্রকাশিত হলেও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের রেজিস্টারে থাকা সারা দেশের ২২৪ জন বহিষ্কৃত নেতার তালিকায় তাঁর নাম নেই বলে দাবি করেন তিনি। একটি পক্ষ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও তাঁর অনুসারীদের রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন আবুল কালাম আজাদ। তবে অব্যাহতির পরও নির্ধারিত সময়ে তাঁদের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসীম উদ্দীন বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই তাঁরা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর দলের জন্য ত্যাগ রয়েছে এবং তাঁকে তাঁরা শ্রদ্ধা করেন। তবে তিনি দলের বহিষ্কৃত নেতা হওয়ায় তাঁকে কর্মসূচির প্রধান অতিথি করা সম্ভব নয়। এ কারণে তাঁদের কর্মসূচিতে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হিরাকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া বেগম বলেন, দেবিদ্বার বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতির কারণে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা হতাশ। দলকে এগিয়ে নিতে বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেম বলেন, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে গ্রুপিং সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করছেন। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়গুলো দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাঁরা তাঁকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। তাঁদের অনুমতি সাপেক্ষেই আবুল কালাম আজাদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।