কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ১০ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় দুই পক্ষে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। অভিযানে একটি মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামু সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পরিচালকের (অপারেশন) নেতৃত্বে রামু সেক্টর, উখিয়া-৬৪ এবং টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির সমন্বয়ে একটি যৌথ টহল দল হ্নীলা বিওপি এলাকার চৌধুরীপাড়া স্লুইসগেট-সংলগ্ন স্থানে অবস্থান নেয়।
রাত ১টার দিকে ৮-১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় তারা।
আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে নাফ নদী ও কেওড়া জঙ্গল এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলে।
একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা ইয়াবার চালান ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি ৭ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে।
অপর দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় চৌধুরীপাড়া এলাকায় একটি ডাকাত দল ইয়াবার চালান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে চোরাকারবারিদের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে সোমবার রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়ন বিজিবির পৃথক অভিযানে আরও ২ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পাচারের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম আরও জানান, উদ্ধার করা ইয়াবা ও জব্দ করা যানবাহন আইনগত প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
এ দিকে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, মাদকের সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।