ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ বাড়িয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার থেকে নতুন রুটে চলাচল শুরু করেছে ট্রেনটি। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি পথে বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরাও সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আজ সোমবার রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের বর্ধিত রুটের চলাচল উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
নতুন সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে ট্রেনটি পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। দুই পথে যাতায়াতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর থেকে ৭২১/৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণ কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে কুমিল্লা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার।
রেলওয়ের সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছেড়ে ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। সেখানে ২০ মিনিট বিরতির পর রাত ৩টায় ছেড়ে সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে ট্রেনটি। সেখানে ২০ মিনিট বিরতির পর দুপুর সাড়ে ১২টায় ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।
বর্ধিত রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। তবে কুমিল্লা স্টেশনে আর থামবে না ট্রেনটি। ফলে এসব এলাকার যাত্রীরা সরাসরি মহানগর এক্সপ্রেসে কক্সবাজার যাতায়াত করতে পারবেন।
রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেসে কোরিয়ান কোচ ব্যবহার করা হবে। ট্রেনটির বেইস স্টেশন হবে কক্সবাজার।
বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করছে। ট্রেন দুটি ঢাকা বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম ছাড়া মধ্যবর্তী অন্য কোনো স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় না। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেস বিভিন্ন স্টেশনে বিরতি দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়।
মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরেও মধ্যবর্তী বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ বাড়ল।
বর্ধিত রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের চলাচল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।