কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে রোহিঙ্গাদের অন্তত ৪৫০টি বসতঘর, লার্নিং সেন্টার, মসজিদ, মক্তবসহ অন্যান্য স্থাপনা পুড়ে গেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৬ নম্বর শফিউল্লাহ কাটা ক্যাম্পে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল পৌনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ডলার ত্রিপুরা জানান, ১৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে একটি লার্নিং সেন্টার (শিখন কেন্দ্র) থেকে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তেই আগুন পার্শ্ববর্তী বসতঘর ও স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করে। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন।
অগ্নিকাণ্ডে লার্নিং সেন্টারসহ বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বা কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিরূপণ করা হচ্ছে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা আশপাশের লার্নিং সেন্টার, মসজিদ ও মক্তবে আশ্রয় নিয়েছে। তীব্র শীতে সহায় সম্বল হারিয়ে এখন তারা চরম অসহায় হয়ে পড়েছে বলে জানান কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা।
ক্যাম্পের একটি ব্লকের মাঝি ছৈয়দ নূর জানান, ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের শুকনা খাবার ও প্রাথমিক সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছে।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পের একটি হাসপাতাল ভস্মীভূত হয়। ২৫ ডিসেম্বর কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পে আগুনে ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।