কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের কাছে বিএনপি প্রার্থীর প্রচার চলাকালে হঠাৎ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক কিশোরীসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার আলীখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির-সংলগ্ন একটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, রোহিঙ্গা ‘সন্ত্রাসীরা’ এ প্রচারে গুলি চালিয়েছে।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে দুজন আলীখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। অন্যরা হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁরা হলেন হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোছনী গ্রামের বাচা মিয়া (৪৫), আলীখালী গ্রামের শাহাব উদ্দিন (১২) ও নুসরাত জান্নাত (১৬)। গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা নাগরিকেরা হলেন আলীখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা আবদুর রহমান (২৭) ও মোহাম্মদ জিসান (১৩)।
পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল রাতে নুসরাত জান্নাত ও শাহাব উদ্দিনকে চট্টগ্রাম নগরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। নুসরাতের পিঠে ও শাহাব উদ্দিনের কোমরে গুলি লেগেছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানান, যেখানে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত। পাশে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মধ্যে এ এলাকায় প্রায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ধানের শীষের প্রচারে রোহিঙ্গাদের কেউ গুলি করতে পারে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
একই অভিযোগ করে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহদাত হোসেন বলেন, ‘আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশের বাজারটি রাত-দিন চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে। ধানের শীষের প্রচারণা লক্ষ্যে করে রোহিঙ্গারা গুলি করেছে।’
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ধানের শীষের প্রচারণায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও এর নেপথ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। তবে আজ শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।