কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে এবার মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। তাঁর নাম কেফায়েত উল্লাহ (২২)। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গতকাল রোববার রাতে উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা কেফায়েত উল্লাহকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনি টেকনাফের ২১ নম্বর চাকমার কুল রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা নজির উদ্দিনের ছেলে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে জানান, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েক দিন ধরে সংঘাত চলছে। গতকাল রাতে সেখান থেকে আসা গুলিতে এপারে থাকা রোহিঙ্গা যুবক কেফায়েত উল্লাহ আহত হন। বিজিবির সদস্যরা সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে ওই যুবককে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি সেখানে চিংড়িঘেরে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় চিকিৎসক তাঁকে ২ নম্বর ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানতে পেরেছি। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।’
কেফায়েত উল্লাহকে হাসপাতালে নিয়ে আসা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা নাসির খান সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল রাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় কেফায়েত গুলিবিদ্ধ হন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
গত কয়েক দিন ধরে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী, আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। এপারের বাসিন্দারা গোলাগুলির বিকট শব্দে আতঙ্কিত রয়েছেন।
গতকাল সকালে মিয়ানমারের ওই সংঘাত চলাকালে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা গুলিতে টেকনাফের হোয়াইক্যাং ইউনিয়নের জসিম উদ্দিনের ৯ বছরের শিশু হুজাইফা আফনান আহত হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ওই দিনই তাকে টেকনাফ থেকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা চলছে। ওই দিন রাতেই চিকিৎসকেরা তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করেও ভেতর থেকে গুলি বের করতে পারেননি। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানান চিকিৎসকেরা।