চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের ১০টি জেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে কবে থেকে আইসিইউ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে এবং রোগীরা সেবা পাবেন, তা নিশ্চিত নয়।
দেশের ১০টি জেলা হাসপাতালে একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আইসিইউ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এমপি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা প্রান্তেও একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনের পর সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিইউর মতো সংবেদনশীল ইউনিট পরিচালনার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এখনো প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে উদ্বোধন হলেও এখনই আশঙ্কাজনক রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, "সারা বাংলাদেশের ১০টি হাসপাতালের যে আইসিইউগুলো নানা কারণে বন্ধ ছিল, বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেগুলো পুনরায় উদ্বোধন করেছেন। তবে এখান থেকে এখনই ‘ইন্সট্যান্ট’ (তাৎক্ষণিক) সেবা পাওয়া যাবে না।"
সংসদ সদস্য আরও বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্য যে ধরনের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন, তার বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবও আছে। এই সংকট দ্রুত নিরসনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চুয়াডাঙ্গার মতো সীমান্তবর্তী ও দূরবর্তী জেলার মানুষের জন্য আইসিইউ সেবা অত্যন্ত জরুরি। জটিল রোগীদের অনেককে ঢাকা বা রাজশাহীতে নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয়। তাই শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে সীমাবদ্ধ না থেকে জরুরি ভিত্তিতে দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করে দ্রুত আইসিইউ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী।