চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তে আইনি বাধা তুলে নেওয়া সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই আপিলের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কার্যতালিকায় এটি ১১৭ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সরকার পক্ষ সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করে শুনানি মুলতবি করেন।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ হাইকোর্টের একক বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল গ্রহণ করে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। চেম্বার জজ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এই আদেশ দেন।
শুনানিকালে আবেদনকারীরা বিতর্কিত রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) জারির আবেদন করেন। জবাবে বিচারপতি মন্তব্য করেন, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার এই চুক্তি সই করতে পারবে না।
আদালতে সরকার পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আনীক আর হক। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রোববার একক বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলটি আজ শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। শুনানি শেষে চেম্বার জজ আমাদের আপিল গ্রহণ করে প্রধান বিচারপতির গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান। আমরা রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চাইলে আদালত স্পষ্ট করে বলেন, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার চুক্তি সই করতে পারবে না।’
এনসিটি পরিচালনা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের সরকারি পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত। এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা হয়।
বাংলাদেশ ইয়ুথ ইকোনমিস্টস ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসেন গত বছর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটরের মধ্যকার চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
এরপর ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেন। বিচারপতি ফাতেমা নাজিব পিপিপি আইন ২০১৫ এবং সরকার-টু-সরকার নীতিমালা ২০১৭ লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে চুক্তির প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন। অপর দিকে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন খারিজ করেন।
পরে বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য একক বেঞ্চে পাঠানো হয়। গত ২৯ জানুয়ারি একক বেঞ্চ রুল খারিজ করে দিলে এনসিটি চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার পথ আইনগতভাবে উন্মুক্ত হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়।
তবে আপিল গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও বিচারাধীন (সাব-জুডিস) হয়ে গেছে। ফলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এনসিটি চুক্তি সইয়ের ওপর নতুন করে আইনি বাধা সৃষ্টি হয়েছে।