চট্টগ্রামে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সদর দপ্তরের নিজস্ব ভবনে অফিস শুরুর প্রথম দিনেই দেয়াল চুইয়ে ঢুকেছে বৃষ্টির পানি। এই পানি থেকে রক্ষা পেতে পাঁচতলা ভবন ত্রিপলে ঢেকে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম নগরীর সার্সন রোডের জয়পাহাড় এলাকায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বিপিসির নিজস্ব ভবন। নগরীর সল্টগোলা বিএসসি ভবন থেকে ৮ জুলাই বিপিসির নিজস্ব ভবনে অফিস স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুলাই মিলাদের আয়োজন করে গতকাল রোববার নতুন ভবনে বিপিসির অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনেই অফিসের বিভিন্ন কক্ষে পানি দেখতে পান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ কারণে কিছু কাগজপত্রও নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। ভবনের দেয়াল চুইয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গতকাল ওই ভবনে গিয়ে দেখা যায়, দেয়াল চুইয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকছে। ভবনের ভেতরে পানি ঢোকা বন্ধ করতে পুরো ভবনের বাইরে ত্রিপলে ঢেকে দেওয়া হয়। নতুন ভবনে পানি ঢোকার কথা স্বীকার করে বিপিসির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম পরিকল্পনা) মো. আপেল মামুন বলেন, কাজের মান খারাপ হয়নি। তবে গ্লাসে একপ্রকার গাম না দেওয়ায় ভবনে পানি ঢুকেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এই প্রতিবেদককে তাঁর কক্ষেও পানি ঢোকার বিষয়টি দেখান।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভবনের দেয়ালের কয়েকটি অংশে ফাটল দৃশ্যমান হওয়ার পর দ্রুত সেগুলো মেরামত করা হয়। তাই নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে আপেল মামুন বলেন, ‘এগুলো বড় ধরনের ফাটল নয়। নির্মাণকাজের সময় ছোটখাটো ফাটল দেখা দিতেই পারে। পুটিং ও প্লাস্টার করে সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। ভবনের নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মান নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি ১৯৯০ সাল থেকে চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। প্রথমে আগ্রাবাদের হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে এবং পরে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ভবনে সদর দপ্তর পরিচালিত হচ্ছিল। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনার পর নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিপিসি। গত বছর জয়পাহাড় এলাকায় স্টিল স্ট্রাকচারের পাঁচতলা ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ইউনাইটেড করপোরেশন। নির্মাণের শুরুতে পাহাড় কাটার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও পরে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। এই নতুন ভবন থেকে বিপিসির সদর দপ্তরের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রায় ১৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে দাপ্তরিক কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।