ঢাকা: চট্রগ্রামের বাঁশখালির কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঘটনায় বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
গতকাল শনিবার দশ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে নিহত হয়েছে পাঁচজন। নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে তাদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং এই হত্যার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
রবিবার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকদের দাবীর সাথে একাত্মতা পোষণ করে এবং তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি করে পাঁচ জন শ্রমিককে হত্যার প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সরকারকে এস আলম গ্রুপের ঠিকাদার আখ্যা দিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, গত শনিবার সরকারের লুটপাটের পাহারাদার পুলিশকে দিয়ে বাঁশখালিতে পাঁচজন শ্রমিককে নিহত ও অর্ধ-শতাধিককে আহত করা হয়েছে। এই এস আলম গ্রুপ দেশের সাতটি ব্যাংক দখল করে নিয়েছে রাষ্ট্র ও সরকারের পৃষ্টপোষকতায়। এরা দেশের মসজিদ ও মাদরাসায় ৩০ কোটি টাকা দান করে দানবির সাজেন কিন্তু তারা শ্রমিকদের পাওনা বেতন এবং ইফতারির টাকা দেয় না।
বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে বজলুর রশীদ আরও বলেন, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তারা একটা জীবনের দাম মাত্র তিন লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জীবনের কোনো দাম হয় না। বিভিন্ন সংস্থা এবং ইএমও বিভিন্ন দেশে বলেছে একজন শ্রমিক যদি কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তখন তার আজীবনের আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমরা বাঁশখালীর শ্রমিক হত্যার দায়ীদের যেমন বিচার দাবি করছি, একই সাথে নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে তাদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার দাবি জানাই। একই সাথে আমরা বলতে চাই বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের মালিককে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, পুলিশ এবং সন্ত্রাসী বাহিনী যারা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে, হামলা পরিচালনা করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় বাম গণতান্ত্রিক জোট গণতদন্ত কমিটি গঠন করে সন্ত্রাসী, লুটরাদের বিচারকার্য সম্পন্ন করবে।
সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক বলেন, এস আলম গ্রুপ গায়ের জোরে সাতটি ব্যাংকের মালিক হয়েছে। সরকার বলছে পাঁচজন নিহত হয়েছে কেউ কেউ বলেছে তার চেয়েও বেশি। আসলে এই সরকার রমজান মাসকে খুনের মাস করেছে, শ্রমিক হত্যা করেছে। ১৯৭১ সালের ইশতেহারে যেই শ্রমিক রাজ, কৃষক রাজের কথা বলা হয়েছে তার জন্য বামপন্থীরা লড়াই করছে। আজকে এই হত্যার জন্য ও এই মৃত্যুর জন্য আমরা অবশ্যই এই ডাকাততান্ত্রীক সরকারকে অভিযুক্ত করবো। বিচার কার হবে? আসামিতো চিহ্নিত। আসামি ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে। এরপর থেকেই সারা দেশে খুন, ধর্ষণ শুরু হয়ে গেছে।
গণতান্ত্রিক বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুল রশিদ ফিরোজের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ (মার্কসবাদী), সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা অংশ নেন।