‘দুই দিন ছেলের সঙ্গে কথা হয়নি। শুক্রবার সকালে সে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছে। বলেছে ভালো আছে। তারা এখন বাংকারে আছে। সেখান থেকে পোল্যান্ড সীমান্তে কখন যাবে, কীভাবে যাবে কিছুই জানতে পারছি না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের কাছ থাকে পাওয়া এই তথ্য জানিয়েছেন ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের উপকূলে বাংকারে থাকা ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক তুহিনের মা খায়েরুন্নেসা। শুক্রবার বেলা ১১টায় ছেলের সর্বশেষ তথ্য জানতে তিনি বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) অফিসে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ছেলের জন্য খুব টেনশনে আছেন জানিয়ে তিনি আটকর পড়া নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার দাবি জানান।
খায়েরুন্নেসা বলেন, ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) ও মার্চেন্ট মেরিনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ, তারা অনেক সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এখন আমার ছেলেটা কীভাবে বাংলাদেশে আসবে এটা নিয়ে আমার টেনশন। বাংকার থেকে পোল্যান্ড সীমান্তে কখন নেবে—এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। বাংকার থেকে কখন মুভ করবে এটি জানতে তুহিনকে মেসেজ দেওয়া হয়েছিল। তুহিন জানিয়েছে, তারা এখন একটি পক্ষের অধীনে আছে। তাদের নিরাপত্তা ও মুভ করার বিষয়টি জানালে তারা মুভ করবে।’
‘বাংলার সমৃদ্ধি’র চিফ ইঞ্জিনিয়ার ওমর শরীফ তুষার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তাঁদের জাহাজ থেকে সরিয়ে বন্দরের উপকূলে বাংকারে আনা হয়েছে। জাহাজ থেকে কিছুটা নিরাপদে আছেন ঠিক আছে। কিন্তু ওই অঞ্চলকে যেহেতু যুদ্ধ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে, সেহেতু সেখানে থাকা কোনোভাবেই নিরাপদ না। যতক্ষণ না তাঁরা ইউক্রেন থেকে বের হতে পারছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত একটা শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কেননা, সেখানে যেকোনো সময় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
একই ধরনের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে জাহাজটির চতুর্থ ইঞ্জিনিয়ার সালমান সরোয়ার সামীর মা চেমন আরা বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সকালে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। বলেছে, তারা ভালো আছে। কিন্তু মা হিসেবে আমি এখনো দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারছি না। যতক্ষণ পর্যন্ত ছেলেকে নিজের কাছে না পাচ্ছি, ততক্ষণ পর্যন্ত মনের মধ্যে একটা শঙ্কা কাজ করছে।’
জাহাজটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানের স্ত্রীর বোনজামাই আব্দুল্লাহ আল মামুন। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘দুপুর ২টায় আমাদের সঙ্গে ওনার কথা হয়েছে। বলেছেন ভালো আছেন। তাঁদের ওখান থেকে পোল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু যাওয়ার রাস্তাটা নিরাপদ না হওয়ায় তাঁদের স্থানান্তর করতে পারছে না।’