টানা তৃতীয় দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হালদা, ধুরং, সর্তাসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি দ্রুত বাড়ায় আজ বুধবার দুপুর থেকে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢোকা শুরু করেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের নির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পাইন্দং, সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও ধর্মপুর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ির উঠানে পানি ঢুকে পড়েছে।
হারুয়ালছড়ির খয়রাতিপাড়া, পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচান এলাকাসহ কয়েকটি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক নিচু জমি ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীতীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা স্বল্পমেয়াদি বন্যার কবলে পড়বে।
স্থানীয়দের মতে, হালদা নদীর পাশাপাশি ধুরং, লেলাং, কুতুবছড়ি, বারমাসিয়া, ফটিকছড়ি, হারুয়ালছড়ি, গজারিয়া, শোভনছড়ি ও সর্তা খালের পানিও দ্রুত বাড়ছে। উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভার মোট ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত দুর্গত মানুষকে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে।
এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনা খাবার, নিরাপদ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইনসহ জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হালদা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’