হোম > সারা দেশ > বান্দরবান

বান্দরবানে সন্ত্রাসীর গুলিতে ইউপিডিএফ সদস্য খুন

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের টংকাবতী ইউনিয়নের পুনর্বাসন পাড়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপিডিএফ এর এক সদস্য খুন হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটার পর বান্দরবান সদরের টংকাবতী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পুনর্বাসন পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিহতের নাম জলন্ত তঞ্চঙ্গ্যা (৩৩)। জাতীয় পরিচয়পত্র সূত্রে জানা গেছে, তাঁর জন্ম ১৯৮৯ সালের ১০ মার্চ। তাঁর পিতার নাম রাম তঞ্চঙ্গ্যা, তিনি বান্দরবান সদরের রাজবিলা ইউনিয়নের থাংলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের সমর্থক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জলন্ত তঞ্চঙ্গ্যা টংকাবতীতে আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেলে মোটরসাইকেল যোগে বান্দরবান সদরের দিকে আসার সময় এ ঘটনার শিকার হন। সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেই পালিয়ে যায়। জলন্তের মোটরসাইকেল আরও এক আরোহী ছিলেন।  জলন্ত তঞ্চঙ্গ্যা গুলিতে মারা গেলেও সঙ্গের আরোহীর   অবস্থা বা পরিচয় সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।

এদিকে গুলিতে একজন নিহতের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নিহত জলন্ত তঞ্চঙ্গ্যার মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) বান্দরবান জেলা সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা আজকের পত্রিকাকে বলেন, নিহত জলন্ত তঞ্চঙ্গ্যা তাঁদের দলের (ইউপিডিএফ) সমর্থক। তিনি জানান, জলন্ত তঞ্চঙ্গ্যা আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি- জেএসএস এর বান্দরবানে ‘কালেক্টর’ (চাঁদা সংগ্রহকারী) ছিলেন। গত এক বছর আগে তিনি জেএসএস ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং ইউপিডিএফ এ যোগ দিয়ে সমর্থক হিসেবে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ইউপিডিএফ ধারণা করছে জলন্ত তঞ্চঙ্গ্যা জেএসএস ছেড়ে ইউপিডিএফ এ যোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে জেএসএসের লোকজন তাঁকে (জলন্ত) গুলি করতে পারে।
 
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকার কারণে সেখানে যেতে বিলম্ব হয়।

বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, একজনকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বান্দরবানে সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেএসএস মূল (সন্তু লারমা গ্রুপ) ও ইউপিডিএফ- গণতান্ত্রিক এবং কথিত মগ পার্টি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তারা একে অপরের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে খুন ও অপহরণের মতো  ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত এক মাসে বান্দরবানে তিনটি সংগঠনের সংঘাতে অন্তত ১৫ জন খুন হয়। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ বান্দরবানের রোয়াংছড়ির তারাছা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার মগ পার্টির সদস্যরা জেএসএস সদস্য উনুমং মারমার ওপর গুলি করে। পরে তারা তাকে ধরে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে কি ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ওইদিনই (৫ মার্চ) পাল্টা হামলা হিসেবে জেএসএস মূল (সন্তু লারমা) দলের সশস্ত্র সদস্যরা রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নে মগ পার্টির ওপর গুলি বর্ষণ করলে মগ পার্টির চার সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। পুলিশ সুপার জেরিন আখতার সন্ত্রাসীর গুলিতে চারজন মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কারা গুলি করে চারজনকে মেরেছে, এবং মৃতরা মগ পার্টি বা তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান। পরে ৭ মার্চ নিহত চারজনের মরদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে বান্দরবান পৌরসভার মাধ্যমে বান্দরবান কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ শ্মশানে সৎকার করা হয়।

মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি: টেকনাফের গুলিবিদ্ধ শিশুটি লাইফ সাপোর্টে

ফেনী হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে রান্না করার ঘটনায় দুই নার্স বরখাস্ত

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস ঢুকল ফলের দোকানে

চট্টগ্রামে পোর্ট কলোনিতে মোটরসাইকেলচালকের ছুরিকাহত মরদেহ, পুলিশ বলছে হামলা অন্য এলাকায়

ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হতেই ছোঁ মেরে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় ফটিকছড়ির এক পরিবারের তিনজন নিহত

ফটিকছড়িতে গুলিতে নিহত ১

মিরসরাইয়ে পুলিশ পরিচয়ে পোলট্রি ফার্মে ঢুকে ডাকাতি, মোটরসাইকেলসহ মালপত্র লুট

শিক্ষককে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলেন চাকসুর শিবির নেতারা

প্রভাবশালী ব্যবসায়ী থেকে ঋণখেলাপি, ৫০ বছরের বন্ধুত্বে ফাটল