চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও অচলাবস্থা নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন শ্রমিকনেতারা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় বন্দর ভবনে শ্রমিক-কর্মচারীদের ১৪ সদস্যের একটি দল এই আলোচনায় যোগ দেয়। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে ৪টা) বৈঠকটি চলছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনা ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। তাই বোট ক্লাবের পরিবর্তে বন্দর ভবনে বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’
শ্রমিকদের অবস্থানের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের অবস্থান ও দাবি একটাই—চুক্তি বাতিল করতে হবে। আমাদের দাবি মেনে নিলেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে।’
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘উপদেষ্টার সঙ্গে সকালে কথা বলে মনে হয়েছে, তিনি চুক্তির অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত নন। আমরা বিষয়গুলো উপস্থাপন করে উপদেষ্টাকে বোঝানোর চেষ্টা করব যে এই চুক্তি দেশবিরোধী। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, দেশবিরোধী কোনো চুক্তি হতে দেবেন না।’
পরিস্থিতি উত্তপ্তের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে দায়ী করে এই শ্রমিকনেতা বলেন, ‘শ্রমিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে তিনি শ্রমিকদের খেপিয়ে তোলায় বন্দরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। আশা করছি, আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’
এর আগে বেলা ১১টার দিকে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় নৌপরিবহন উপদেষ্টা আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন। শ্রমিকেরা তাঁর গাড়ি আটকে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন।