কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে ছয় খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে তাঁদের আটক করে এপিবিএন পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-আড়াই শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার পরপর অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারকৃত মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করে।
আজ রোববার সকালে গ্রেপ্তারকৃত ১০ রোহিঙ্গাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
৮ এপিবিএন পুলিশের অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ১০ রোহিঙ্গার মধ্যে পাঁচজন এজাহারভুক্ত, অপর পাঁচজন সন্দেহভাজন।
এ ছাড়া সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ক্যাম্প-১৩-এর আলী আহম্মদের ছেলে মোহাম্মদ আমিন (৩৫), একই এলাকার আবু সিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস ওরফে ফয়েজ (২৫), ক্যাম্প-১২-এর ইলিয়াছের ছেলে জাফর আলম (৪৫), ক্যাম্প-১০-এর ওমর মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ (৪০) ও ক্যাম্প-১৩-এর নাজির আহম্মদের ছেলে মোহাম্মাদ আমিন (৪৮)।
উখিয়া থানার ওসি আহম্মেদ সনজুর মোরশেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
নিহতরা হলেন—রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১২, ব্লক-জে-৫-এর বাসিন্দা হাফেজ ও মাদ্রাসাশিক্ষক মো. ইদ্রীস (৩২), ক্যাম্প-৯ ব্লক-১৯-র মৃত মুফতি হাবিবুল্লাহর ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২৪), ক্যাম্প-১৮ ব্লক-এইচ-৫২-এর নুরুল ইসলামের ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র আজিজুল হক (২২), একই ক্যাম্পের ভলান্টিয়ার আবুল হোসেনের ছেলে মো. আমীন (৩২)।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এফ-২২-এর মোহাম্মদ নবীর ছেলে মাদ্রাসাশিক্ষক নুর আলম ওরফে হালিম (৪৫) ও ক্যাম্প-২৪-এর রহিম উল্লাহর ছেলে মাদ্রাসাশিক্ষক হামিদুল্লাহ (৫৫)।