চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া বুলেট চোখে বিদ্ধ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা ১১ বছরের কিশোরী রেশমি আক্তারের অবস্থার কোনো উন্নতি নেই।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রেশমির পরিবারের সদস্যরা তার বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁরা শিশুটির মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।
আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রেশমির শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবর পাওয়া যায়নি।
শিশুটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে আছে। আইসিইউর সামনে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন তার বড় ভাই ফয়সাল আহমেদ ও মা সাবেরা বেগম।
ফয়সাল আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা আর কী বলব। আমাদের তো আর বলার কিছু নেই। তার অবস্থা আগের মতোই। চিকিৎসক কিছু বলছেন না।’
এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি রেশমির চোখ দিয়ে প্রবেশ করে মাথার গভীরে গিয়ে পেছনের দিকে আটকে আছে। গুলি অপসারণে অস্ত্রোপচার করা হলে তাঁর জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালের আইসিইউতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. বাকি বিল্লাহ জানান, শিশুটির অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। এখন সে প্রায় ব্রেন-ডেড অবস্থায় আছে। তার চেতনা প্রায় শূন্য এবং রক্তচাপ নেই।
৭ মে রাত পৌনে ১১টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকায় রেশমির চোখে একটি বুলেট বিদ্ধ হয়। ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন সন্ত্রাসী মো. হাসান ওরফে রাজু নামের এক যুবককে তাড়া করে পেছন থেকে গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে রাজুর মৃত্যু হয়। তখন সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি বুলেট বিদ্ধ হয় শিশু রেশমির চোখে। এর পর থেকে অচেতন অবস্থায় প্রথমে চমেক হাসপাতালে ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। এক দিন পর সেখান থেকে পরে পুনরায় রেশমিকে অস্ত্রোপচারের জন্য চমেক হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
শহীদ মিনার গলির স্থানীয় বাসিন্দা সবজি ব্যবসায়ী রিয়াজ আহমেদ ও সাবেরা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট রেশমি। সে স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমির পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার সময় মায়ের জন্য পান কিনে আনতে বাসা থেকে বের হয়েছিল রেশমি।