হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে আবারও জলাবদ্ধতা

সম্পাদকীয়

অল্প বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম তলিয়ে যায়, এটি এ শহরের জন্য নতুন কোনো খবর নয়। কিন্তু এবার এক দিনের বৃষ্টিপাতে ৪৩ বছরের রেকর্ড ব্রেক করেছে। এ বছর এক দিনের বৃষ্টিতে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

প্রতিবছর বর্ষা এলেই বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত এ শহরটি পানির নিচে তলিয়ে যায়, আর নাগরিক জীবন পরিণত হয় চরম দুর্ভোগে। কেন কোনো সরকারই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে না, সেই প্রশ্ন আজ আবার নতুনভাবে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে? অপরিকল্পিত পরিকল্পনা যে কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারে না, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হতে পারে এ শহর। আবারও প্রমাণিত হয়েছে এ শহরের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে অবহেলা করে নেওয়া জোড়াতালি ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা কখনোই এ নগরীকে রক্ষা করতে পারবে না।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সবার আগে প্রয়োজন এমন একটি কর্তৃপক্ষ, যারা কোনো টোটকা সমাধানের দিকে এগোবে না। বিগত সময়গুলোতে প্রমাণিত হয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিআই), সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠান এখানে ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠান দিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। একই সঙ্গে এসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণেই যে সমস্যার সমাধান হয়নি, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এখন জরুরি হলো, সবার আগে এ নগরীর ভেতর দিয়ে একসময় বয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক খাল ও নালা-নর্দমাগুলোর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। বছরের পর বছর ধরে চলা অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ করে খালগুলোকে প্রশস্ত ও গভীর করতে হবে। কেবল খনন করলেই চলবে না, জোয়ারের পানি নগরীতে প্রবেশ করা ঠেকাতে এবং ভাটার সময় ভেতরের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত প্রতিটি খালের মুখে স্বয়ংক্রিয় ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামকে বাঁচাতে হলে এর পাহাড় ও সংলগ্ন জলাধারগুলোকে রক্ষা করতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার ফলে বর্ষায় যে বালু ও কাদা ধুয়ে এসে নালাগুলো ভরাট হয়ে যায়, তা বন্ধ করতে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

আধুনিক নগর-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পুরো শহরের ড্রেনেজ নেটওয়ার্ককে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নতুন করে সাজাতে হবে, যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুততম সময়ে প্রধান খালগুলোতে পৌঁছাতে পারে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করে নালা-নর্দমার পলিথিন ও প্লাস্টিকে আটকে যাওয়া বন্ধ করতে হবে।

এর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। প্রতিটি সরকারের আমলেই নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু এ শহরের জলাবদ্ধতা কমেনি। এ জন্য বর্তমান সরকারের উচিত আগে জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা, তারপর সমস্যা সমাধানের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ করা। নতুবা সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না।

চট্টগ্রামে দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

ঢল-বৃষ্টি: ডুবল নগর-পাহাড়ি সড়কও

পানিবন্দী লাখো মানুষ, রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত

বৈরী আবহাওয়ায় আগামীকালও বন্ধ থাকবে চবির ক্লাস-পরীক্ষা

জলাবদ্ধ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখার নির্দেশ চট্টগ্রামে

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে রাতে আনন্দ-উল্লাস, সকালে পাহাড় ধসে নিহত সামিয়া

ফটিকছড়ির নিম্নাঞ্চলে ঢুকছে পানি, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

রেললাইনে পানি ওঠায় চবির শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ

ফ্লাইওভারে ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, এনসিপি নেতা নিহত

ওমানে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু