চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী আবীর আলীকে (১৯) একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। একই মামলায় এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে এ অভিযোগপত্র ও দোষীপত্র জমা দেন চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ কুমার দে।
মনোজ কুমার দে বলেন, এই মামলায় মূল আসামি আবীর আলীকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী এক কিশোরকে আসামি করে তার বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, আবির আলী শিশু আয়াতকে অপহরণ, হত্যাকাণ্ড ও শিশুটিকে টুকরো করার ঘটনাটি ওই কিশোরকে জানিয়েছিল। কিন্তু কিশোর বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবার কিংবা কারও কাছে বলেনি। সে যদি জানালে শিশুটিকে হয়তো বাঁচানো যেত। এ কারণে ওই কিশোরকে এই মামলায় অপরাধী হিসেবে গণ্য করে তার বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তার বিচার হবে শিশু আদালতে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, এই মামলায় আবীরের বাবা-মাকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আবীরের কিশোরী বোনকেও দোষীপত্র থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তারা কোনো কিছুই জানত না বলে তদন্তে এসেছে।
মনোজ কুমার দে বলেন, ৩০২ / ২০১ (খুন ও লাশ গুম) ধারায় আবীর আলীকে এবং ২০১ (লাশ গুম) ধারায় অপর কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্র ও দোষীপত্র মিলিয়ে ৩৫৭ পৃষ্ঠার এই নথিতে মোট ৫০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আয়াত। শিশুটি তার বাসা থেকে বেরিয়ে স্থানীয় মক্তবে পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ওই ঘটনায় শিশুটির বাবা সোহেল ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ ঘটনায় আবীরকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ছয় খণ্ড করে ছয়টি প্যাকেটে ভরা হয়। পরদিন ১৭ নভেম্বর তিনটি প্যাকেট ২০ ফুট গভীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন নালায় ও বাকি তিনটি প্যাকেট সাগরে ফেলে আসে আবীর।
গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি আবীর আলী বলেন, দ্রুত ধনী হওয়ার জন্য তিনটি অটোরিকশা কেনার পরিকল্পনা করেন তিনি। আয়াতকে অপহরণের পর তার দাদা মনজুর হোসেনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।