হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

তেলপারই খাল: গাইড ওয়ালে আটকে কোটি টাকার সেতু

• বাঁশের সাঁকোয় খাল পারাপার হন স্থানীয়রা।

• ৬৬ লাখ টাকা তুলেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

• ২ দফা মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি।

• ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তিনবার শোকজ।

ইউসুফ আরফাত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

খালের দুই পাড়ে দুটি গাইডওয়াল। পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পার হচ্ছেন এক ব্যক্তি। সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দমদমা এলাকার তেলপারই খালে। আজকের পত্রিকা

খালের দুই পাড়ে দুটি গাইড ওয়াল। পড়ে আছে মরিচা ধরা লোহার রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। পাশে বানানো একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের দমদমা এলাকার তেলপারই খালের চিত্র এটি।

সাড়ে তিন বছর আগে তেলপারই খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিং করপোরেশন কাজটি পায়। তবে এখন পর্যন্ত খালে শুধু দুটি গাইড ওয়াল করা হয়েছে। দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়েও সেতুর কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। এখনো কাজ বন্ধ। কবে নির্মাণ আবার শুরু হবে, তা বলা অনিশ্চিত।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসেম বলেন, প্রতিবার স্থানীয় লোকজন নিজেদের টাকায় বাঁশের সাঁকো বানায়। কিন্তু পাহাড়ি খাল হওয়ায় প্রতিবছর সাঁকো ভেঙে যায়। খাল পারাপারে ভোগান্তি কমাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি আজও। অসমাপ্ত সেতুর কাজে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে।

একই এলাকার ইন্ডিল্লার চরের কৃষক আবু আহমদ বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর আগে দুটি পিলার (গাইড ওয়াল) নির্মাণের পর ঠিকাদার আর কাজ করতে আসেননি। ঠিকাদার বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, তা-ও জানি না। বেঁচে থাকলে তো কাজ করতে আসতেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘পিআইও কার্যালয় স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঠিকাদারকে আরও জোরালোভাবে তাগাদা দিলে কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। এ ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও পিআইও কার্যালয়—উভয়ের গাফিলতি রয়েছে।’

পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তেলপারই খালের ওপর ১৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের জুনে কাজ শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় ২০২৪ সালের জুনে। পরে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। এ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে।

লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন বলেন, ‘দমদমা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে খাল পারাপারে ভোগান্তিতে রয়েছেন। অনেক তদবিরের পর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারের চরম গাফিলতির কারণে বছরের পর বছর ধরে সেতুর কাজ অসমাপ্ত পড়ে আছে। ঠিকাদার আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুতই নির্মাণকাজ শেষ করবেন।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. এরশাদ বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ আবার শুরু করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ শেষ করা হবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবু নাছের বলেন, সেতুটির কার্যাদেশ এবং প্রকল্পের মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে কার্যাদেশের মেয়াদও বাড়ানো হতে পারে। কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে চবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’

চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেল থেকে ৭ নারী-পুরুষ আটক

আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর ইটে মাথা থেঁতলে হত্যা, পলাতক আসামির মৃত্যুদণ্ড

চন্দনাইশে মহাসড়কের পাশে মিলল মুমূর্ষু ব্যক্তি, হাসপাতালে মৃত্যু

‘হোতা’ পদ্মা ডিপোর ব্যবস্থাপক

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের খুঁটিনাটি যাচাই করল আইকাও দল

সীতাকুণ্ডে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গেটসংলগ্ন মহাসড়কে অবৈধ পার্কিংবিরোধী অভিযান

চট্টগ্রামে ফেনসিডিলের মামলায় ২ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অভিযোগ কমাতে সাড়ে ১০ হাজার মিটার বদলাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পরদিন অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-ননদ গ্রেপ্তার