চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনায় লুকোচুরি চলছে। ঘটনার ১৭ দিন পর মামলা হলেও এখনো হদিস মেলেনি লুট হওয়া মালপত্রের। তদন্তেরও কোনো কূলকিনারা নেই। এক মাস আগে ঘটনাটি ঘটলেও প্রকাশ্যে এ নিয়ে সেভাবে মুখ খোলেনি চায়না ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষ ও আনোয়ারা থানা-পুলিশ।
গতকাল রোববার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ডালপালা মেলে। তাঁদের প্রশ্ন, এত নিরাপত্তার পরও চায়না ইকোনমিক জোনের মতো একটি স্থানে কীভাবে ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে।
আনোয়ারা থানা-পুলিশ জানায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একদল ডাকাত। তারা প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ, মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এর ১৭ দিন পর ২৩ ফেব্রুয়ারি জোনের স্টোর ম্যানেজার ওয়েন জিঅং বাদী হয়ে ১৫-২০ জনকে আসামি করে আনোয়ারা থানায় একটি ডাকাতির মামলা করেন।
মামলার সাক্ষী মো. সাহেদ ও আজিজুল হক জানান, ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র, রড, রামদা ও ছুরি নিয়ে ইকোনমিক জোনে প্রবেশ করে। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে ফেলে। পরে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার মালপত্র, গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুটে নেয়। ডাকাত দলের সদস্যদের আনুমানিক বয়স ২০-৩৫ বছরের মধ্যে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত মালপত্র উদ্ধার বা কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। চায়না ইকোনমিক জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহেদুজ্জামান বলেন, রাতের আঁধারে একদল লোক নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ ও মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঠিকাদারিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানীয় মো. আইয়ুব জানান, এসব ঘটনার সঙ্গে ভেতরের কেউ জড়িত থাকতে পারে।