প্রায় তিন মাস ধরে হরমুজ প্রণালি পারের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটিতে থাকা ৩১ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। গত ঈদুল ফিতর জাহাজে কেটেছে তাঁদের। ঈদুল আজহাও জাহাজেই কাটানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও বিএসসি কর্তৃপক্ষ বলছে, জাহাজের নাবিকেরা সবাই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
জাহাজে থাকা নাবিকেরা জানান, পর্যাপ্ত খাবার ও পানি আছে। কিন্তু মাথার ওপর মিসাইল ও ড্রোন হামলার শঙ্কা। নেই তীরে নামার সুযোগ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলেও স্বস্তিতে নেই তাঁরা। তাঁরা আরও জানান, সাগরে মাসের পর মাস ভেসে থাকার অভিজ্ঞতা আছে তাঁদের। তারপরও এবারের অভিজ্ঞতা একদম ভিন্ন। তাঁরা আগে কখনো এমন যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি।
জানতে চাইলে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘সাগরে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতা নাবিকদের কাছে নতুন নয়। জাহাজে নাবিকেরা সবাই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। সবাই সুস্থ আছেন এবং তাঁদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’
তথ্যমতে, ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে বাংলার জয়যাত্রা। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে আটকা পড়ে জাহাজটি।
গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর এটি কুয়েতের একটি বন্দর থেকে নতুন করে পণ্য নেওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। যুদ্ধবিরতি আলোচনার পর এটি সম্ভব হবে বলে মনে করছিল তারা। তবে হরমুজ প্রণালির মুখ পর্যন্ত গিয়েও ফেরত আসতে হচ্ছে তাদের।
সর্বশেষ ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার জন্য জয়যাত্রা আবারও যাত্রা শুরু করে। এ সময় আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়ে হরমুজের কাছাকাছি এসে পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে।