চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মো. শওকত আলী (৩০) শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ১১ মে রাত ১টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) জহুরপুর টেক বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২৩/৭-এসের কাছ দিয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল অবৈধভাবে গরু আনার উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ওই দলের সঙ্গে থাকা শওকত আলী পরে নিখোঁজ হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে এই ঘটনায় শওকত আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিজিবি ক্যাম্পে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।
এরপর গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পদ্মা নদী থেকে শওকত আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্বজনদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। রাত দেড়টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত ব্যক্তির চাচা আনারুল ইসলাম বলেন, ‘মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা লাশটি উদ্ধার করে খবর দিলে আমরা সেখানে গিয়ে লাশটি নিয়ে আসি। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ নিয়ে যায় এবং এখন ময়নাতদন্ত করছে। তবে আমার ভাতিজা গরু আনতে গিয়েছিল কি না, নাকি মাছ ধরার সময় মারা গেছে—সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।’
এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি, শওকত আলী ১০ মে গরু আনতে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়েছিলেন। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে পুলিশ তা উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।’
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শনিবার রাতে সদর থানার আওতাধীন পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পাওয়া যায়। তবে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়।
মতিউর রহমান বলেন, ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পরিচালনা করছে।
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এসআই জীবন জানান, শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ময়নাতদন্ত শুরু হয়নি।