চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওয়াসিম আকরামের বিরুদ্ধে এলডিডিপির (লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট) টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৬ মে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জুয়েল রানা নামের এক ভুক্তভোগী।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এলডিডিপি প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পের প্রডিউসার গ্রুপ (পিজি) বা খামারি দলের সদস্যদের প্রতি মাসে দুটি করে সভা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কথা ছিল। প্রতিটি সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদের জন্য জনপ্রতি ৩২০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ টাকার নাশতা দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া একটি প্রশিক্ষণ দেখিয়ে অংশগ্রহণকারীদের দিয়ে চারটি পৃথক মাস্টাররোলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চার মাসের ভুয়া উপস্থিতি দেখিয়ে প্রায় ৮ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকার বিল-ভাউচার উত্তোলনের পরিকল্পনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় প্রতিজন পিজি সদস্যকে ১০ হাজার টাকার মালামাল দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ সদস্য তা পাননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ মে সকালে গোপনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে প্রথম ধাপে ৪০ জন পিজি সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে বিকেলে আরও ৪০ জনকে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের প্রশিক্ষণ চলাকালে অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ হয়। এ সময় কয়েকজন সদস্য লক্ষ করেন, একজনের কাছ থেকে চারটি আলাদা স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এলএফও (লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভ) মো. সাদেক আলী বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসে ১৬টি পিজি দলের প্রতিটিতে ৪০ জন সদস্য নিয়ে মোট ১২৮টি সভা করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৬৪টি সভা করা হয়েছে। একটি সভায় ভুলবশত একজন সদস্যের কাছ থেকে চারটি স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওয়াসিম আকরাম বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৬ মে) পিজি সদস্যদের একটি প্রশিক্ষণ চলছিল। সেখানে এলএফও সাদেক আলী ভুলবশত একজন সদস্যের কাছ থেকে চারটি স্বাক্ষর নিয়েছেন। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল, অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শারমিন আক্তার ১১ মে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানান। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হেমন্ত কুমার রায় মোবাইল ফোনে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। গতকাল (মঙ্গলবার) আমি এবং বিভাগীয় পরিচালক স্যার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস পরিদর্শন করেছি। সেখানে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে।