জাটকা সংরক্ষণে চলছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। তাই চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ। এতে জেলেরা কর্মহীন হয়ে বেকার সময় পার করছেন। আয়ের পথ বন্ধ থাকায় এই ঈদে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো নিয়ে জেলে এবং তাঁদের পরিবারে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন জেলের সংখ্যা অর্ধলক্ষ। তাঁদের মধ্যে প্রান্তিক জেলের সংখ্যা ৩০ হাজার।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিভিন্ন জেলেপল্লি ঘুরে দেখা যায়, খালে অলস পড়ে আছে সারি সারি মাছ ধরার নৌকা। এসব নৌকা নদীতে নামতে মানা। কারণ, জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এর মধ্যে পেরিয়েছে এক মাস। সামনে রয়েছে আরও এক মাস। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেরা নদীপাড়ে নীরবে বসে আছেন।
জেলার মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে দক্ষিণে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত সেই একই চিত্র। শুধু তা-ই নয়, নদীপাড়ের জেলেপল্লিতেও সুনসান নীরবতা। আয় বন্ধ থাকায় প্রান্তিক জেলে পরিবারগুলোতে অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। চুলায় হাঁড়ি, কিন্তু তাতে নেই ভালো খাবার। ধারদেনায় কোনোমতে দিন কাটছে তাঁদের।
এখলাছপুর জেলেপল্লির গৃহবধূ রোকেয়া বেগমের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। সামনে ঈদুল ফিতর। পরিবারের শিশুও মুখিয়ে আছে ঈদে নতুন পোশাকের জন্য। কিন্তু সংসারের আয়ের পথ বন্ধ। তাই নতুন পোশাক তো দূর, ঈদে ভালো খাবার মিলবে কি না, এই সংশয় তাঁর চোখেমুখে।
গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত এক মাস তাঁর পরিবারের কোনো আয় নেই। তাঁর স্বামী বাড়িতে বসে বেকার সময় পার করছেন। তাঁরা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। এত দিন পরিবারের একমাত্র মানুষ উপার্জনক্ষম মানুষ কর্মহীন হয়ে বসে থাকলে তাঁদের না খেয়ে মরতে হবে। রোকেয়া বেগম আরও বলেন, ঈদে পরিবারের সবাই নতুন পোশাক আর ভালো খাবারের আশা করেন। কিন্তু চাহিদা থাকলেও সামর্থ্য নেই তাঁদের।
মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই মাসের জন্য বেকার হয়ে পড়া প্রান্তিক জেলেদের দুর্ভোগের যেন কমতি নেই। তার মধ্যে ঈদ আনন্দ সমাগত। তাই এসব জেলে এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সরকারের সদয় হওয়ার আহ্বান জানান জেলে প্রতিনিধি ইমাম হোসেন। অন্যদিকে সরকারি প্রণোদনার চাল দেওয়া হলেও তার সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদ্যাপনে জেলেদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আরেকটু মানবিক সহায়তার দাবি জানান মতলব উত্তরের এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী।