চাঁদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্য ফাঁস করে এক মাদক কারবারিকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তথ্যদাতা (সোর্স) মো. শাওন কাজী (২৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরে তাঁর ভাড়া বাসা থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোডের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রহমত উল্লাহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শাওন কাজী শরীয়তপুর জেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের রণখোলা শিবপুর গ্রামের মো. মকবুল হোসেন কাজীর ছেলে। তিনি প্রায় এক বছর ধরে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল চাঁদপুর শহরের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নেয়। তবে অভিযানের আগেই ওই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় তথ্য ফাঁসের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তদন্তে ডিএনসির নিয়মিত তথ্যদাতা শাওন কাজীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে।
ডিএনসির দাবি, শাওনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে ওই মাদক কারবারির সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তাকে নিজ বাসায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর স্ত্রীও অভিযানের তথ্য সংশ্লিষ্ট মাদক কারবারির কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় বাসা থেকে ইয়াবা বড়ি ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের তথ্যদাতার কারণে মাদকবিরোধী অভিযান ব্যাহত হয় এবং দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
মিজানুর রহমান আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাওন মাদক কারবারিদের সহায়তার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। প্রযুক্তিগত তদন্তে তার মোবাইল ফোন থেকে আরও কয়েকজন মাদক কারবারির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে এমন অভিযোগও উঠে এসেছে যে, তিনি বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন।