নদীভাঙনের ঝুঁকি কমাতে চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধের দুই পাশের সংস্কারকাজ চলছে। তবে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বাইরে থেকে মাটি এনে বাঁধ সংস্কার করার পরিবর্তে বাঁধের গোড়া থেকেই ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে ওপরের অংশে ফেলা হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই নতুন করে দেওয়া মাটি ধসে পড়ছে। ফলে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিন মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সংস্কার করা বাঁধের দুই পাশের বিভিন্ন স্থানে মাটি ভেঙে নিচে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে নতুন করে ফেলা মাটি ধুয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঁধের নিচের অংশ থেকে মাটি তুলে ওপরের অংশে দেওয়ার কারণে সংস্কারের পরিবর্তে বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী অন্য স্থান থেকে মাটি এনে ভরাট করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, একই পদ্ধতিতে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় সংস্কারকাজ চলছে। তাঁদের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সুগন্ধি এলাকা থেকে দক্ষিণে প্রায় এক কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ হলেও সংস্কারের পর ওই অংশ আগের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া মূল ঠিকাদার সরাসরি কাজ না করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কাজে নিয়োজিত তৃতীয় পক্ষের প্রতিনিধি মো. মাহবুব বলেন, যতটুকু মাটি কাটা হয়েছে, সে অনুযায়ী বিল দেওয়া হবে। তবে কাজটি নিয়ে তাঁরা সমস্যায় আছেন। ঠিকাদারের পক্ষে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন কাজ তদারকি করেন। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ স্থানীয়ভাবে সমন্বয় ও তদারকি করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ঠিকাদার সরাসরি কাজ না করে তাঁর মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করেন। এই সংস্কারকাজের মূল ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ।
এ বিষয়ে জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাজের অগ্রগতি, মান ও তদারকি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি। সর্বশেষ কবে কাজ পরিদর্শন করেছেন, সেটিও জানাতে পারেননি। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে কাজ তদারকিকারী মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপনকে জানান।
মোবাইল ফোনে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি নেমে গেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগে সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে যতবার মাটি সরে যাবে, ততবার সংস্কার করা হবে।
চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পাউবো বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি তাঁদের জানা আছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে আবার মাটি দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে। শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু ব্যবহার করে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই।