চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় বসতভিটা, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এর প্রতিবাদে ও বালু লুট বন্ধের দাবিতে আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চরভৈরবী এলাকায় হাজী নগরসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন।
স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কৃষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় ‘লুটপাটের দিন শেষ, জনতা আজ সজাগ বেশ’, ‘নদীভাঙন মানেই ক্ষতি, থামাতে হবে এখনই অবহেলাটি’ ইত্যাদি লেখা-সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাদাত মিয়াজি বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে চরভৈরবী এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে নিচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং অজ্ঞাত কারণে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিদিনই নদী ভাঙছে। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যেতে পারে।’
কৃষক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নদীর তীর ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা জীবিকা হারানোর পথে। অথচ অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’
মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষকেরা জানান, নদীর তীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয় ভবনসহ আশপাশের অবকাঠামো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।